ঢাকা, ১৫ মার্চ, ২০২৬ || ১ চৈত্র ১৪৩২
Breaking:
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২২৩ নারী ও ২০২ শিশু      সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জামায়াত আমিরের বিতর্ক     
Mukto Alo24 :: মুক্ত আলোর পথে সত্যের সন্ধানে
সর্বশেষ:
  কথা বলার জন্য বিরোধী দলকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেয়া হচ্ছে: হুইপ দুলু        লাইলাতুল কদর উপলক্ষ্যে বিশ্বের সকল মুসলমানকে শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী     
১৯০৮

কোভিড নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য:অধ্যাপক ডা.মামুন আল মাহতাব

লেখকঃ অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)

প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১  


অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল):
ভ্যাকসিন তৈরি হবে কি হবে না, হলে কাজ করবে কি করবে না, কাজ করলে বাংলাদেশে আসবে কি আসবে না, বাংলাদেশে আসলে সবাই পাবে কি পাবে না, আর যারা পাবে তারা সবাই নেবে কি নেবে না এমনি হাজারো প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ক’মাসে নাই নাই করেও এক আমারই তো বেশ কয়েকটা কলাম লেখা হয়ে গেল। সঙ্গে টিভি টকশো আর ফেসবুক লাইভে কত না ব্যাখ্যা, কখনও পক্ষে তো বিপক্ষে কখনও কখনও।

আজ আর সেসবে যাব না। আজ শুধুই ব্যক্তি বন্দনা। বন্দনার যিনি যোগ্য তার বন্দনায় গ্লানি নেই। যা কিছু আছে তার সবটাই গৌরবের। বাংলাদেশে এসেছে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন। নিজেদের কেনা ভ্যাকসিনের প্রথম চালানটি হাতে আসার আগেই বন্ধুপ্রতিম ভারতের উপহার হিসেবে আমরা পেয়েছি আরও দুই মিলিয়ন ডোজের এক ’শ সাতষট্টি কার্টন বোঝাই কোভিশিল্ডের একটি চালান। অবশেষে চলমান কোভিড প্যান্ডেমিকের ভ্যাকসিন পর্বে আমরাও এবং আমার নিজের প্রথম ডোজটি নেয়ার সপ্তাহপূর্তিও হতে চলল।

তবে এসব কোন কিছুই আজকের এই লেখার উপজীব্য নয়। কোভিড মোকাবেলায় আমাদের সাফল্য নানা যুক্তিতে তুলে ধরার কোন চেষ্টা আজ নয়। চেষ্টা নয় যুক্তি দিয়ে অবিশ্বাসীদের খোঁড়া যুক্তিগুলোকে খন্ডানোরও। আজকের লেখাটা শুধুই আমাদের কোভিড সাফল্যের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিগুলো নিয়ে।

ক’দিন আগেই ব্লুমবার্গের রেটিংয়ে কোভিড নিরাপদ দেশের তালিকায় শীর্ষ বিশ-এ স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। লক্ষণীয় যখন ব্লুমবার্গ ওই রেটিংটি করেছিল তখন এদেশে প্রতিদিন নতুন কোভিড রোগী শনাক্তের শতকরা হারটি দশ-এর আশপাশে উঠানামা করছিল। আর এখন তা ধারাবাহিকভাবে পাঁচের নিচে। তখন পর্যন্ত বাংলাদেশ কোভিড ভ্যাকসিন নিয়ে আসায় তেমন কোন কিছু করে দেখাতে পারেনি। আর তাতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সাঁইত্রিশ নম্বরে ফেলে বাংলাদেশ টপ টুয়েন্টিতে। মাঝে মাঝে এ নিয়ে আমার একটু-আধটু দুঃখবোধ হয় না তাও নয়। ব্লুমবার্গ যদি রেটিংটা সে সময় না করে এ সময়টায় করত আমরা তো তাহলে আরব আমিরাত, রাশিয়া আর নেদারল্যান্ডসকে পেছনে ফেলে জায়গা করে নিতে পারতাম টপ ফাইভে। গত বছরের শুরু থেকে দেশে কোভিডের লাশের মিছিলের খোজে যারা গলা ফাটাচ্ছিলেন বছর শেষে তাদের আশার গুড়েবালি ঢেলে দেয়া ব্লুমবার্গের এই র‌্যাঙ্কিংয়ে আমাদের যে সংহত অবস্থান তার শতভাগ কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীর।

যারা আমার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করবেন, কৃতিত্বটা ভাগাভাগি করতে চাইবেন এর-ওর সঙ্গে, সম্ভবত তাদের জন্যই বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালকের প্রধানমন্ত্রীকে লেখা সাম্প্রতিক চিঠিটি। বড় দিনের ঠিক আগে আগে বেশ বড় এই চিঠিতে বিশ্ব সংস্থার এই বড় কর্তার শুধুই নেত্রী বন্দনা।

মহাপরিচালক মহোদয় লিখেছেন প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে একের পর এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করে কোভিডকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়া যায়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরকারের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে সামনে কোভিডকে পরাজিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। কোভিড প্যান্ডেমিক মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থন আর সহযোগিতা যে এই বিশ্ব সংস্থাটির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়েও কোন রাখ-ঢাকও করেননি ‘হু’ মহাপরিচালক তার চিঠিতে।

আজ ভ্যাকসিন যখন জাগাচ্ছে নতুন আশা আর বিশ্ব যখন বাজাচ্ছে শেখ হাসিনার ঢাক, আমি তো তখন সেই ঢাকের ঢুলি হবই হব। ধন্যবাদ শেখ হাসিনা- আপনার ঢোলের ঢুলি হওয়াতেও গর্ব। কারণ সে ঢাকের অনুরণন বাংলাদেশের এক লাখ চুয়াল্লিশ হাজার বর্গকিলোমিটারের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী।

লেখকঃ অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)

-চেয়ারম্যান, লিভার বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

-সদস্য সচিব, সম্প্রীতি বাংলাদেশ

 

মুক্তআলো২৪.কম       

আরও পড়ুন
পাঠক কলাম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত