ঢাকা, ০৬ মে, ২০২১ || ২২ বৈশাখ ১৪২৮
Breaking:
পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জুলাই থেকে ঢাবিতে অনলাইনে পরীক্ষা      পবিত্র রমজান উপলক্ষে দুঃস্থ অতি দরিদ্র ব্যাক্তি,পরিবারকে মানবিক সহায়তায় এ্যাড.সামসুল হক টুকু এম.পি     
Mukto Alo24 :: মুক্ত আলোর পথে সত্যের সন্ধানে
সর্বশেষ:
  আগে জীবন পরে জীবিকা: সেতুমন্ত্রী        রাষ্ট্রপতি আগামীকাল দ্বিতীয় ডোজ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিবেন        এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা হবেই        ৪ জুলাই নাগাদ প্রাপ্তবয়স্ক ৭০ শতাংশ লোককে করোনা টিকার প্রথম ডোজ দিতে চায় হোয়াইট হাউস        মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী     
১৭১

করোনা মোকাবেলায় আমাদের নিজেদের মডেলই অনুসরণ করতে হবে

মুক্তআলো২৪.কম

প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২১  

অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)

অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)


অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল):

করোনা হচ্ছে একটি বৈশ্বিক মহামারী, কিন্তু এর মোকাবেলা করতে হবে আমাদের নিজস্ব প্রেক্ষাপটে। প্রতেকটা অঞ্চল বা দেশে করোনা মোকাবেলা করতে হবে তার নিজস্ব আঙ্গিক ও পারিপার্শ্বিক প্রেক্ষাপটে। বিভিন্ন দেশের করোনা মোকাবেলা কখনো এক হবে না। একেকটা দেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব, আকার, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, মানুষের অভ্যাস ও প্রবৃত্তি একেক রকম। এই প্রেক্ষাপটে করোনা আমাদের মতোই। ১২তম মাসের তুলনায় ১৩তম মাসে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৭৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। একমাসের ব্যবধানে করোনায় এতো বেশি রোগী শনাক্ত এবং মৃত্যুবরণ করা আগে দেখেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারা এখন আমাদের দেশের করোনার গতিপ্রকৃতিতে কিছুটা পরিবর্তন দেখছেন। এখন আমাদের সবদিকে নজর দেওয়ার খুব জোরালো সময় চলে এসেছে।

আমারা জানি যে সংক্রমণ রোধের জন্য একটি পদ্ধতি হচ্ছে লকডাউন। অনেকেই প্রত্যাশা করেছিলেন, আমরা চীনের মতো করে লগডাউন দেবো। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সেটি সম্ভব নয়। চীন যেভাবে লকডাউন দিয়েছে, জার্মানি সেভাবে পারেনি। জার্মানি যেভাবে লকডাউন পালন করেছে, আমরা সেভাবে পারবো না। কারণ তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা অনেক বেশি। আমাদের আমাদের মডেল ফলো করতে হবে। জার্মানিতে জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে কঠোর লকডাউন দেওয়া হয়েছিলো, তারপর যখন তারা লকডাউন খুলে দিয়েছে আবার দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হয়েছে। ব্রিটেন এর দিকে তাকালে দেখবো তারা জীবিকাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এতো বেশি মাত্রায় মানুষ মারা যেতে শুরু করলো, যার কারণে ব্রিটেনে লকডাউন দিতে হলো।

আমেরিকা ও ব্রাজিল বলছে, করোনা কোনো রোগই না! বাংলাদেশে থেকে অনেকগুণ বড় দেশে এগুলো, আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক কম। এসব দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যু লাফ দিয়ে বেড়ে গেছে। করোনা মোকাবেলায় আমরা যে মডেল ফলো করেছি, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সেটার প্রশংসা করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক বলেছেন, বৈশ্বিক করোনা মোকাবেলায় আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চান। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আজকের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি আমাদের মতো করেই মোকাবেলা করতে হবে। জীবন ও জীবিকা দুটোকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে জীবনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে জীবিকার চেয়ে। কারণ আমাদের দেশে সংক্রমণ এবং মৃত্যু মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। কারণ গত ১৩ মাসের মধ্য ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি ঘরের বাইরে ছিলো। খুব বেশি সময় ছিলো সুপার মার্কেট ও খোলা মাঠে। খোলা মাঠে বলতে জ্বালাও -পোড়াও, মৌলবাদী শক্তিদের ধ্বংসযজ্ঞ। দেশে করোনার অতিসংক্রমণের ভ্যারিয়েন্টগুলো লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সারা পৃথিবীতে কিছু ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়েছে যেগুলো অতিসংক্রমণ করে সেগুলো বাংলাদেশে আছে। এই বাস্তবতায় আমাদের এবার জীবনকে জীবিকার থেকে এগিয়ে রাখতে হবে।

সরকার গত বছর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিলো। এ বছর সরকার প্রথমে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে, তারপর কঠোর লকডাউনের ঘোষণা করেছে। রেলগাড়িকে যেমন হঠাৎ করে থামিয়ে দেওয়া যায় না, তেমনি আমাদের মতো একটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিকে একদিনে থামাতে পারবো না। সতের কোটি মানুষের অর্থনীতি যেভাবে চলছে, ছুটছে, মূলত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ওপর আমাদের অর্থনীতি নির্ভরশীল, এটাকে আমরা হঠাৎ করে থামাতে পারবো না। সরকার সেই কাজটিই করেছে। প্রথমে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন, সবকিছু থামানোর চেষ্টা করেছেন। কিছু কিছু প্রতিবাদ হয়েছে, ৬-৭ দিনের সময় পাওয়া গেছে, এখন সরকার কঠিন লকডাউনে যাচ্ছে। সরকার তার কাজ করছে। সরকারকে দোষারোপ করলে হবে না, আমাদের বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আমাদের সচেতনতার জায়গাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, আমি বা আমরা কেউ মারা গেলে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমাদের পরিবার। সরকার যে বিধিনিষেধ আরোপ করবে সেগুলো আমাদের অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালন করতে হবে।

আমাদের মাথায় রাখতে হবে করোনাভাইরাস এ বছরই শেষ নয়। প্রথম ওয়েবের তুলনায় দ্বিতীয় ওয়েবে আমরা ভয়াভহ চিত্র দেখছি। স্রষ্টা আমাদের কপালে সামনে আরও ভয়াভহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া লিখে রেখেছেন কিনা আমরা সেটা জানি না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে কোভিড মোকাবেলা করতে চাইলে আমাদের ভ্যাকসিন সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে, আমেরিকা। তারা একসময় সংক্রমণে একনম্বর ছিলো। সফল ভ্যাকসিনেশনের মাধ্যমে তারা পাঁচে চলে এসেছে। ইরান গত বছর রেডজোন ছিলো। একসময় টিভি খুললেই ইরানে মৃত্যু দেখা যেতো। এখন ইরানের নাম নেই। কারণ তার নিজস্ব উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন প্রয়োগের মাধ্যমে করোনা নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে। আমাদের দেশে একাধিক প্রতিষ্ঠান আছে যারা ফিল্ ফিনিশ করতে পারে। যাদের ভ্যাকাসিন উৎপাদনের অভিজ্ঞতা আছে এবং তারা আংশিক সক্ষম। সরকার আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে আমাদের দেশে যে ২-৪টা ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আছে তাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, যাতে তারা টেকনলোজি ট্রান্সফারের মাধ্যমে দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদন করতে পারে।

আমাদের দেশের গ্লোব বায়োটেক ভ্যাকসিন উৎপাদনের চেষ্টা করছে। আজকের পৃথিবীতে ভ্যাকসিন তৈরি করতে ৮-১০ বছর সময় লাগে না। এম.আর.এনে এর টেকনলজির মৌলিক অগ্রগতির কারণে ৫-১০ মাসের মধ্যেই ভ্যাকসিন তৈরি করা যায়। যোগ্য মানবসম্পদ ও যথার্থ উৎপাদন প্লান্ট থাকলে বাংলাদেশের মতো দেশ ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারে। যার একটি বড় উদাহরণ ইরান। এই জায়গায দাঁড়িয়ে আমার মনে হয় আমাদের উচিত হচ্ছে নিজস্ব ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেটকে দ্বিতীয় ট্রায়ালে নিয়ে যাওয়া এবং পরীক্ষা করে দেখা এটি কাজ করে কিনা? আমাদের ভ্যাকসিন দিয়ে আমরা করোনা মোকাবেলা করবো। শুধু বিদেশি ভ্যাকসিন আমদানি করে আমরা করোনা মোকাবেলা করতে পারবো না। ভারত আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। তারা নিজেদের চাহিদা পূরণ না করে আমাদের ভ্যাকসিন দিচ্ছে। দফায় দফায় তারা ভ্যাকসিন উপহার দিচ্ছে। মাথায় রাখতে হবে শুধু বন্ধুত্ব ও উপহারের ওপর নির্ভর করে দুটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী চলতে পারে না। ভারত সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে, আমাদেরও করতে হবে।


 

 

মুক্তআলো২৪.কম

আরও পড়ুন
পাঠক কলাম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত