ঢাকা, ২০ অক্টোবর, ২০১৯ || ৪ কার্তিক ১৪২৬
Breaking:
Mukto Alo24 :: মুক্ত আলোর পথে সত্যের সন্ধানে
সর্বশেষ:
৮৮৩

এ্যাড.শামসুল হক টুকু`র

"আত্নকথন" পর্ব:০২

এ্যাড.শামসুল হক টুকু এমপি

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯  

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বীর-মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড.শামসুল হক টুকু এমপি

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বীর-মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড.শামসুল হক টুকু এমপি

সাঁথিয়া হাই স্কুলে থেকে এস.এস.সি পাস করে  আমার অভিভাবকদের আপত্তির সত্ত্বেও আমি ‘বেড়া কলেজে’ এইস.এস.সি ভর্তি হই ১৯৬৬ সালে।বেড়া কলেজে ভর্তি হই এই কারণে যে ,এই বেড়া থেকে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।বেড়া কলেজ পড়বো ভেতরে ভেতরে  এক ধরনের জেদও ছিল আমার।

বেড়া কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৪ সালে।নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।তাই কলেজের উন্নয়নের জন্য আমরা দোকানে দোকানে চাউল তুলতাম এবং পড়াশোনা করতাম।
বেড়া কলেজে পড়া লেখার পাশাপাশি আমি এবং আমাদের বড় ভাইরা মিলে ছাত্রলীগ সংগঠন গড়ে তুললাম।যাদের মধ্যে বিশেষ ভাবে বলতে হয় সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী অঞ্চল থেকে ফয়েজ মিয়া নামে এক বড় ভাই ছিল। সে আমাদের অন্যতম সংগঠক।আমি তাদের জুনিয়র থাকলেও বিভিন্ন সময় তাদেরকে রাজনৈতিক পরামর্শ দিতাম,তারা সে সকল পরামর্শ সাদরে গ্রহণও করত। কারন আমি স্থানীয় এবং আমি একজন সাঁতারু ছিলাম, ফুটবল খেলোয়াড় ছিলাম,ভলিবল খেলোয়াড় ছিলাম এবং নাট্য সংগঠনের সঙ্গেও জড়িত ছিলাম।তখন বিভিন্ন নাটকে অভিনয়ও করতাম।এক কথায় বিভিন্ন সংগঠক হিসেবে আমার বেশ পরিচিতি ছিল।

এই সময়টাতে মূলত ছাত্রলীগ সংগঠনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত হয়ে গেলাম।তবে কোন সংগঠনের পদবি’তে আমি ছিলাম না।যদিও কলেজ জীবনের এই দুই বছর সমস্ত ছাত্রলীগের কাজকর্ম আমিই পরিচালনা করেছি।

সংগঠনের  সবাই আমাকে পছন্দ করত কারন আমার বাবা  জুরান উদ্দিন সরকার একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।আমার বড় ভাই বদরুল আলম মেজ ভাই আব্দুল সাত্তার আমাকে রাজনীতিতে বেশ উৎসাহিত করত।

বেড়া কলেজ থেকে আমি এইচএসসি পাস করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট ভর্তি হই।যদিও প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হতে গিয়েছিলাম ।

আমাদের গ্রামের পাশের গ্রাম বনগ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ভাই তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত ।আমাদের গ্রামের ভাগিনা বলে পরিচিত ছিল সে। বেড়া বি বি হাই স্কুলের খুবই ভাল ছাত্র ছিল ।আব্দুর রাজ্জাক ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগের ছাত্র ছিলেন। থাকতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলে।তার ছোট ভাই আব্দুল মালেক আমাদের জুনিয়র সেও ভাল ছাত্র ছিল সে পড়ত ঢাকা কলেজে।সেও তার বড় ভাই এর সাথে থাকতো। আমি এসএম  হলের তাদের রুমে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির জন্য উঠেছিলাম।

রাত বারোটার সময় হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে আমি দরজা খুলে দিলাম, দরজা খুলতেই দেখি মোনায়েম খানের দল আইয়ুব খানের ছাত্র সংগঠন (এনএসএফ) এর নেতা জমির উদ্দিন ।
সে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল,তুমি কি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে এসেছো?
আমি বললাম, হ্যাঁ।
তিনি বললেন,কাল সকালে আমাদের সংগঠনের মেম্বারশীপ নিতে হবে।
আমি বুঝে উঠতে না উঠতেই সে আমাকে বলল, আমাদের সংগঠনের সদস্য হও ভর্তি কোন সমস্যা না। তা না হলে ভর্তি হতে পারবে না।
(এন এস এফ) এই সংগঠনের কাজই ছিল প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন করা। মোনায়েম খানের পক্ষে কথা বলা আইয়ুব খানের রাজত্ব টিকিয়ে রাখা। বাঙ্গালীদের রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।
আমি বললাম, আমি একজন জাতীয় সাঁতারু।
তিনি বললেন, সব ঠিক আছে আমাদের সংগঠনে ভর্তি হতে হবে।

আমি সারারাত চিন্তা করলাম আমি একজন ছাত্রলীগ কর্মী শেখ মুজিবের নাম বুকে ধারণ করে চলেছি। তিনি আমাদের বড় নেতা। আর এখন কি না (এনএসএফ) করব? সকালে ঘুম থেকে উঠে চলে আসলাম আমার বাড়ি বেড়া’তে সেদিনটি ছিল ১২ই আগস্ট ১৯৬৮ সাল।পরের দিন আমি বাড়িতে থাকলাম।

১৪ আগস্ট সেদিন ছিল মরহুম পাকিস্তান ডে। ভাঙা বাসে চড়ে আমি ঈশ্বরদী গেলাম। ঈশ্বরদী থেকে ট্রেনে করে রাজশাহী পৌছালাম। যদিও সেদিন মরহুম পাকিস্তান ডে থাকার কারণে ছাত্রদের কাছ থেকে ট্রেনের  এর ভাড়া নেওয়া হল না।আমি চলে গেলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য।

যেহেতু একজন সাঁতারু ছাত্র ছিলাম তাই খুব সহজে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ম‍্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট এ ভর্তি হয়ে গেলাম।

লেখকঃ সাবেক বিদ্যুৎ,জ্বালানী ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বীর-মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এ্যাড.শামসুল হক টুকু এমপি।

চলবে...


মুক্তআলো২৪.কম/২৪জানুয়ারি২০১৯

শিল্প-সাহিত্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত