ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ || ২৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
Breaking:
Mukto Alo24 :: মুক্ত আলোর পথে সত্যের সন্ধানে
সর্বশেষ:
  বুধবার ৪-ই ডিসেম্বর, ২০১৯ বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করার নিমিত্তে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেলা ১২টায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির চিকিৎসা সহায়ক কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো `বাঙাালির অহংকারঃ বঙ্গবন্ধু ও ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ` শীর্ষক আলোচনা সভা ।        স্বাস্থ্য সামগ্রী বিতরণ রোটারী ক্লাব অফ ঢাকা জেনারেশন নেক্সট এর ছাত্রীদের মাঝে     
২৬৩৭

সময় আর সহিষ্ণুতা,সেক্স

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০১৪   আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০১৪

সকাল সকাল সেক্স-এর কোনও বিকল্প হয় কি দিন ভাল রাখতে? মুশকিল হল, এ নিয়ে ছেলেরা বলবে এক কথা, মেয়েরা ঠিক তার উল্টোটা!এই যেমন বিখ্যাত মার্কিন অভিনেত্রী মে ওয়েস্ট-এর কথাই ধরা যাক! ‘সেক্স ইজ অ্যান ইমোশন ইন মোশন`, সোজাসাপটা এটাই মনে করতেন মে ওয়েস্ট। ওদিকে আবার মেরিলিন মনরো-র সেক্স নিয়ে মাথা না-ঘামানোর পক্ষে যুক্তি, ‘ইটস্ নট ট্রু দ্যাট আই হ্যাড নাথিং অন। আই হ্যাড দ্য রেডিও অন`! কী কান্ড! অবশ্য সমীক্ষা বলে, অন্যান্য মেয়েদের কাছেও নায়িকাদের মতোই সেক্স ব্যাপারটার বেশির ভাগ মানসিক, বাকিটুকু শারীরিক।

আর ছেলেরা?
‘আই ডোন্ট নো দ্য কোয়েশ্চেন, বাট সেক্স ইজ ডেফিনিটলি দ্য অ্যানসার`, এমনটাই বক্তব্য দুঁদে মার্কিনি অভিনেতা-পরিচালক উডি অ্যালেন-এর! অন্য দিকে, বিশ্বখ্যাত গায়ক ফ্র্যাঙ্ক জাপা আরও সোচ্চার, ‘সেক্স করতে চাইলে কলেজে যাও, পড়াশোনা করতে চাইলে লাইব্রেরিতে`!
ভেবে দেখলে, ছেলেদের একেবারে সকাল থেকে সেক্স নিয়ে উত্তেজিত হয়ে থাকার মধ্যে অস্বাভাবিক কিন্তু কিছুই নেই। সমীক্ষা বলে, প্রতি সাত সেকেন্ড অন্তর না কি সেক্সের ব্যাপারটা একবার করে ছেলেদের মাথায় হাতুড়ি মেরে যায়! তাহলে কি ডাক্তাররা রোগীর নাড়ি দেখতে দেখতে ওই সবের কথা ভাবেন? ইঞ্জিনিয়াররা বাড়ি বানাতে বানাতে? বাস ড্রাইভার বাস চালাতে চালাতে?
সে নিয়ে যে যা-ই বলুন, প্রায় সব ছেলেরাই বলছেন, সকাল বেলায়, ঠিক ঘুম ভাঙার পরে সেক্সের চেয়ে ভাল আর কিছু-ই হয় না! রাতে সেক্স হলে তো ভাল-ই, তবে সকালে প্রায় হতে-ই হবে! ছোটবেলার বন্ধু সৌপর্ণ মজুমদার যেমন একবার সখেদে জানিয়েছিল মুখ ভার করে, ‘সকাল বেলায় উঠে ভাবলাম, শুরু করে দিই, কিন্তু বদলে ঝগড়া শুরু হয়ে গেল! ধুস্, দিনটাই মাটি!` শিল্পী বন্ধু রচিষ্ণু সান্যাল বলছে, ‘ঘুম থেকে উঠে নিজেকে রিলিজ না করে রাস্তায় পা-ই দিই না`! ওদিকে সহকর্মী সায়ন আর দেবোপমেরও এক বক্তব্য, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, সকালবেলারটাই সবচেয়ে ভাল`!

আর মেয়েরা?
‘সকাল মানে কতটা সকাল? একেবারে আলো ফোটার পরেই? উম্, বেশ তো! কিন্তু তার পরে একটু ঘুমোতে দিতেই হবে`, গড়িমসি করে বলছে ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিস্ পাপাই! আরেক বন্ধু সৃজিতা সরকার কয়েক কদম এগিয়ে প্রতিবাদে মুখর, ‘দূর দূর, সাত সকালে ওসব পোষায় না কি? সকালবেলায় আমার একদম ইচ্ছে করে না`! এই দলে যে ব্যতিক্রম নেই, তা অবশ্য নয়। দেবশ্রীর যেমন স্বীকারোক্তি, ‘ঘুমাতে না দিলেও চলবে`! তবে ব্যতিক্রম তো নিয়মকেই সমর্থন করে, তাই না?
এখন কথা হল, কেন এমন? নেহাতই বিপরীত লিঙ্গ বলেই কি যৌন চাহিদার সময়টাতেও বিপরীত ইচ্ছে? শরীর কিন্তু বলছে, একেবারে তাই। ছেলেদের আর মেয়েদের সেক্স ঘড়ির কাঁটা প্রায় উল্টো পথেই হাঁটে। কীভাবে, সেই আলোচনা শুরু করা যাক একেবারে ভোর থেকেই!

ভোর পাঁচটায় কী হয় : ঘুম থেকে ওঠার আগে থেকেই না কি ছেলেদের যৌন চাহিদা তুঙ্গে থাকে! এই সময়টায় টেস্টোস্টেরন হরমোনের নিঃসরণ সবচেয়ে বেশি হয়, দিনের অন্য যে কোনও সময়ের চেয়ে প্রায় ২৫-৩০ গুণ বেশি। এর মূলে অবশ্য রয়েছে পিটুইটারি-র খেলা। তার কাজকাম শুরু হয়ে যায় গভীর রাত থেকেই; চলে সে-ই ভোর ইস্তক!
মেয়েদেরও যে এই সময়টায় টেস্টোস্টেরণ ক্ষরণ হয় না, তা নয়! তবে শারীরিকভাবে উত্তেজিত হওয়ার পক্ষে তা প্রায় কিছুই নয়। তার ওপর আবার মেয়েদের টেস্টোস্টেরন ক্ষরণ ওয়েস্ট্রোজেন আর প্রোজেস্টেরনের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে হয়। কিন্তু ছেলেদের ওসব বালাই নেই, তাদের শুধুই উত্তেজিত করে রাখে টেস্টোস্টেরন। ফলাফল? অনেক ছেলেই না কি সপ্তাহে প্রায় বার তিনেক দৃঢ়, কঠিন অবস্থায় ঘুম থেকে জেগে ওঠেন! বন্ধু তুষারকান্তিও একদা স্বীকার করেছিল এমনতরো সমস্যার কথা, ‘সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে মাঝেমাঝেই কঠিন হয়ে থাকে, কিন্তু ওই সময়ে বাজার যাওয়ার তাড়া খেতে ভাল লাগে কি`?

ছ`টায় ষড়রিপুর চাপ : সারা রাত ভাল করে ঘুমিয়ে নিলে ভোর ছ`টা থেকেই না কি ষড়রিপু ছেলেদের চাপ দিতে শুরু করে। সবার প্রথমে হামলা করে কাম। আসলে ছেলেরা যত শান্তি করে ঘমান, তত-ই নাকি টেস্টোস্টেরন ক্ষরণের মাত্রা বাড়তে থাকে। আমেরিকার মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সমীক্ষা বলছে, মাত্র ঘন্টা পাঁচেক নিরুপদ্রব ঘুম হলেই নাকি ছেলেরা প্রায় ১৫ গুণ বেশি সক্রিয় হয়ে থাকেন। আর তার পরে যদি ইচ্ছাপূরণ না হয়? তখন ধাপে ধাপে কাম থেকে ক্রোধ, ক্রোধ থেকে লোভ, লোভ থেকে মোহ, মোহ থেকে হতাশায় মদ এবং সবার শেষে অন্যের বউকে দেখে মাৎসর্য বা পাতি হিংসে!

সাত সকালের সাতকাহন : এবার ঘড়ি ধরে সাতটার সময়ে ছেলেরা উত্তেজিত হয়ে থাকলেও মেয়েরা তো হন না! বিখ্যাত মার্কিন গাইনিকোলজিস্ট গ্যাব্রিয়েল ডাউনি-র মতে, মেয়েরা সবচাইতে উত্তেজিত বোধ করেন মেনস্ট্রুয়াল সাইকেলের মধ্যবর্তী ধাপে। তাহলে? আর কী! ওই ছেলেদের একটু জোরজার করতে হয়, একটু বেশি-ই উদ্যোগী হতে হয়! তাতে কাজকাম মিটলে ভাল, নইলে দিন খারাপ গেল!

আটটার ফাটকা : এই সকাল আটটা সময়টা না একেবারেই সুবিধের নয়। বলছি শুনুন, যে ফাটকা চাপটা সে ফেলে বিশেষ করে ছেলেদের শরীরে-মনে, একই সঙ্গে মেয়েদেরও, সেটা একেবারে যাচ্ছেতাই! এই সময়টা থেকেই না কি কর্টিসল নামের একটা হরমোন চাপ দেয় শরীরে, যার প্রভাবে ক্লান্তি বাড়তে থাকে। এর পর সারা দিনে ছেলেদের শরীরে টেস্টোস্টেরন ক্ষরণ হয় বটে, তবে তার মাত্রা ওঠা-নামা করতে থাকে। কী সাঙ্ঘাতিক, না?

ঠিক দুপুর বেলা : দুপুর বারোটা বাজলে কিন্তু ছেলেদের হরমোনের খেলেরও প্রায় বারোটা বাজতে থাকে। ওই সময়ে একজন তুমুল আকর্ষণীয় মেয়ে দেখলে ছেলেরা যে উত্তেজিত হবে না, তেমনটা নয়। কিন্তু এক্ষেত্রে উত্তেজনা বাড়াবে মূলত স্নায়ু, এনডরফিনস্ নামের একটা ফিল-গুড নিউরিট্র্যান্সমিটার। ওটাই গিয়ে ধাক্কা দেবে পুরুষ-অঙ্গে, তাকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করবে। এবার টেস্টোস্টেরন যথেষ্ট পরিমাণে আগে থেকেই ক্ষরণ হয়ে থাকলে ভাল, নইলে মনটা শক্ত করে তুলে ধরা ছাড়া আর কী বা করার থাকতে পারে!

দুপুর একটায় যা হয় : মেয়েরাও দুপুরের এরকম একটা সময়ে আকর্ষণীয় পুরুষ দেখে উত্তেজিত হতে পারেন। তবে সমীক্ষা বলছে, তেমনটা খুব কম-ই হয়। মেয়েরা না কি বিরহের সময়টাতেই সবচেয়ে উত্তেজিত বোধ করেন।
ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস একদা একটি পরীক্ষা চালিয়েছিল লং-ডিসট্যান্স রিলেশনশিপে থাকা পাঁচটি মেয়েকে নিয়ে। প্রিয় পুরুষটিকে দেখার আগে, দেখার পরে, মিলনের পরে এবং দূরে চলে যাওয়ার আগে তাঁদের স্যালাইভা পরীক্ষা করে দেখা হয়। সেই সমীক্ষাই বলছে, পুরুষটি দূরে চলে যাওয়ার ঠিক আগের দিন আসন্ন বিরহের কথা ভেবেই রীতিমতো উত্তেজিত হয়ে ছিলেন পাঁচ মহিলা-ই!

সন্ধে যখন নামে : সন্ধে ছ`টা থেকে সরাসরি ছেলেদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পড়তে থাকে। অন্য দিকে, মেয়েরা এই সময় থেকেই না কি জেগে উঠতে থাকেন একটু একটু করে। এমনকী, যে মেয়েরা সন্ধেবেলায় জিমে যান, তাঁরা রাতে যৌন খেলায় অন্যান্য মেয়েদের চেয়ে প্রায় ৩০ গুণ বেশি সক্রিয় থাকেন; তাঁরা অর্গ্যাজমও লাভ করেন ২৫ গুণ বেশি!

সন্ধে সাতটায় মিউজিক নয় : সন্ধে সাতটায় নিজেকে একটু রিল্যাক্স করতে চেয়ে পছন্দের মিউজিকে ডুব দিতে চাইছেন? মেয়েরা করতেই পারেন। এই সময়টায় যখন শরীর জেগে উঠছে, তখন পছন্দসই মিউজিক আরও উত্তেজিত করতে সাহায্য করে মেয়েদের। ছেলেদের কিন্তু উল্টোটাই হয়। পছন্দসই মিউজিক এই সময়টায় তাঁদের শান্ত করে তোলে, উদ্দাম নয়!

রাত আটটায় যা হয় : এই সময়ে টিভি-তে কোনও খেলা-টেলা থাকলে প্রিয় পুরুষটিকে দেখতে না-দেওয়াই ভাল! উটা বিশ্বিদ্যালয়ের সমীক্ষা বলছে, খেলায় প্রিয় দল জিতলে ছেলেরাও বিছানায় ভাল-ই খেলে। কিন্তু প্রিয় দল হেরে গেলে আদতে উল্টোটা হয়! আর মেয়েরা? তাঁরা খেলা দেখার চেয়ে এই সময়টায় খেলতেই না কি বেশি পছন্দ করেন।

রাত ন`টায় নয়ছয় : এই রাত ন`টার সময়টা না, খুব বিপজ্জনক! ছেলেদের টেস্টোস্টেরন ক্ষরণ এই সময়টায় না কি একেবারে তলানিতে এসে ঠেকে! আর মেয়েরা থাকেন প্রায় তুঙ্গে। অবশ্য মাঝে কিছু ব্যাপার-স্যাপার আছে।

মেয়েদের যে চাইলেই হয় ছেলেদের মতো, তা কিন্তু নয়। মে ওয়েস্ট-এর ওই ‘ইমোশন ইন মোশন` থিওরিটা মনে আছে তো? ওই আবেগটাই না কি মেয়েদের ক্ষেত্রে আসল ব্যাপার! সমীক্ষা তাই বলছে, কোনও মেয়ে যদি নিজেকে অসুন্দর মনে করে, সমাজও সেটাই বোঝায়, প্রিয় পুরুষটির কাছ থেকেও যদি প্রশংসা না মেলে এবং নিজেকে আয়নায় দেখতে দেখতে মেয়েটির ধারণা যদি বদ্ধমূল হতে থাকে, তবে কিন্তু সে সাড়া দেবে না!

রাত যখন দশটা :  কী মনে হয়, এই সময়টায় ঘুমিয়ে পড়ার আগে ছেলেরা সেক্স চায় না? আরে, ছেলেদের টেস্টোস্টেরন ক্ষরণ যেহেতু মেয়েদের চেয়ে বেশি, সেই জন্য না-চাওয়ার কোনও কারণ কিন্তু নেই। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, এই সময়টায় টেস্টোস্টেরন কম-ই থাকে ছেলেদের শরীরে সকালবেলার চেয়ে। অতএব, ছেলেদের খেলা শুরু করতে তেমন কোনও অসুবিধে নেই!
আর মেয়েরা? মানসিকভাবে ব্যাপারটা উত্তেজিত না করলে আর মেনস্ট্রুয়াল সাইকেলের ১৩ নম্বর দিনে না থাকলে মেয়েদের অর্গ্যাজম পূর্ণতা পায় না- এটাই বলছে সমীক্ষা। অতএব, তড়িঘড়ি করে কি কোনও লাভ আছে? এবার থেকে না-হয় একটু ঘড়ি ধরে, সময় মেপেজুপেই দেখুন না!
সূত্র : আনন্দবাজার

লাইফস্টাইল বিভাগের সর্বাধিক পঠিত