ঢাকা, ০৭ ডিসেম্বর, ২০২১ || ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৮
Breaking:
অস্ত্র প্রতিযোগিতার পরিবর্তে একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে সম্পদ ব্যবহার করুন : প্রধানমন্ত্রী     
Mukto Alo24 :: মুক্ত আলোর পথে সত্যের সন্ধানে
সর্বশেষ:
  বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো সমস্যা চায় না ভারত :পররাষ্ট্রমন্ত্রী        রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ব্রাজিলে নবনিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ        কোভিড-১৯-এর চ্যালেঞ্জ ও প্রভাব মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর        মুরাদ হাসানের পদত্যাগপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে     
৩০০৬

এ্যাড.শামসুল হক টুকু`র

"আত্নকথন" পর্ব:০১

এ্যাড.শামসুল হক টুকু এমপি

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০১৯  

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বীর-মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড.শামসুল হক টুকু এমপি

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বীর-মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড.শামসুল হক টুকু এমপি

১৯৬৪ সাল,আমি তখন বেড়া বি বি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলায় প্রচন্ড উৎসাহী ছিলাম।ফুটবল খেলা,ভলিবল খেলা,সাঁতার প্রতিযোগিতা ,মাছ মারা এসব করে আমার অনেকটা সময় কাটতো। 

তদানীন্তন পূর্ব বাংলার নেতারা সেদিনের শেখ মুজিবুর রহমান,হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী আমাদের দেশে  ফাতেমা জিন্নাহ নামে একজনকে প্রার্থী করেছিলন। আমি তখন ফাতেমা জিন্নাহর পক্ষে ভোট চাইতাম।আমরা পাকিস্তানের পক্ষে স্লোগানও দিতাম।আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ুয়া একজন  কিশোর।

একদিন স্কুলে ‘আইয়ুব খান জিন্দাবাদ' স্লোগান দেওয়াতে  আমাদের স্কুলের তদনীন্তন আওয়ামী লীগ নেতারা আমাকে ডেকে নিয়ে বললো, ভারতের বিরুদ্ধে আমরা স্লোগান দিব কিন্তু আইয়ুব খানের পক্ষে আমরা কোন স্লোগান দিব না। এর কারণ পরে জানানো হবে।আমরা তাদের কথা মতো স্লোগান দিতে শুরু করলাম।এরপর নির্বাচন হলো নির্বাচনে হেরে গেল ফাতেমা জিন্নাহ। যুদ্ধ হলো ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে তাও বন্ধ হয়ে গেল।

আমাদের স্কুলে আইয়ুব খানের শাসন আমলে পায়েস খাওয়াতো বড় বড় বুটের পায়েশ,যদিও আমাদের দেওয়া হতো গুড়ের পায়েস।আর স্কুল পরিচালনা পরিষদের যারা তারা মুসলিম লীগের প্রভাবাশালী লোকজন ছিল,তখনকার আজহার মোল্লা ডান-পিঠা মুসলিম লীগার ছিলেন।ছিলেন নজির উদ্দিন সরকার এই স্কুলের পরিচালনা পরিষদে ছিল আইয়ুব আলী খাঁ, রইস সাহেব এবং রইসউদ্দিন প্রামানিক এরা সবাই মুসলিম লীগের প্রভাবশালী সদস্য ছিল।

আমাদের স্কুলে পায়েশ খাওয়ানো  এবং তার খরচ চালানোর জন্য ছাত্রদের বেতন বৃদ্ধি করা হলো আট আনা।আমরা তখন বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করলাম।আমরা কতিপয় কয়েক জন ছাত্র বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদে হেডমাস্টারের বিরুদ্ধে মিছিল করলাম স্লোগান দিলাম এবং আমরা পোস্টার করলাম।পোস্টার গুলো হেড মাস্টারের বাড়ির সামনে লাগানো হল ।লাগানো হলো বাজারে স্কুলের দেওয়ালে দেওয়ালে।

পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা এতে খুবই ক্ষুব্ধ হলো আমার উপর এবং আমার সঙ্গে যারা ছিল তাদের উপর।স্কুলে আমাকে,আব্দুল করিম সুনু  ওর বাড়ি ছিল মত্যবাধা,বড় ব্যবসায়ী আবদুল গনি সরকারের ভাগিনা দেলোয়ার হোসেন ও এসেছিল মানিকগঞ্জ থেকে।আমাদের এই তিনজনকে কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ না দিয়ে। কিংবা সতর্কতা স্বরূপ কোন নোটিশ না দিয়ে।আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে। আমাদের তিন জনকে স্কুল থেকে বহিস্কার করা হলো।
৩১ শে মে ১৯৪৮ সালে আমি জন্ম গ্রহণ করি ।আর ১৯৬৪ সালের ৩১শে মে জন্মদিনে আমাকে স্কুল থেকে বহিস্কার আদেশ দেওয়া হয়।বেড়া বি বি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরে আমি সাঁথিয়া হাই স্কুলে ভর্তি হই। এবং ওখান থেকে এসএসসি পাস করি।


লেখকঃ সাবেক বিদ্যুৎ,জ্বালানী ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বীর-মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এ্যাড.শামসুল হক টুকু এমপি।

চলবে...

শিল্প-সাহিত্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত