ঢাকা, ৩০ মার্চ, ২০২০ || ১৬ চৈত্র ১৪২৬
Breaking:
বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টায় একজন আক্রান্ত, চারজন সুস্থ      শিক্ষার্থীদের ঘরে বসে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহবান শিক্ষামন্ত্রীর      কোন প্রকার গুজবে কান দিবেন না : সেতুমন্ত্রী     
Mukto Alo24 :: মুক্ত আলোর পথে সত্যের সন্ধানে
সর্বশেষ:
  করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ        প্রধানমন্ত্রী বললেন করোনার সঙ্গে লড়াই করার সক্ষমতা বাংলাদেশের আছে        চিকিৎসকের চোখে করোনাভাইরাস:অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)     
২০১

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে মাঠে নামছে নির্মূল কমিট

মুক্তআলো২৪.কম

প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০২০  


দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সারা দেশে ব্যাপক প্রচারাভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০ মার্চ উত্তরবঙ্গ থেকে দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসকদের নামে ‘করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয়’ শিরোনামের ইশতেহার প্রচারের মাধ্যমে এই কর্মসূচী উদ্বোধন করবেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল এবং রংপুর বিভাগের চিকিৎসা সহায়ক কমিটির আহ্বায়ক ডাঃ মফিজুল ইসলাম মান্টু।


আগামীকাল বিকেল ৩টায় ঠাকরগাঁও-এর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় থেকে এই প্রচারাভিযান আরম্ভ হবে। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাশাপাশি প্রথম পর্যায়ে সারা দেশে ১০ লাখ ইশতেহার বিলি করবে।

অধ্যাপক ডাঃ কামরুজ্জামান, অধ্যাপক ডাঃ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত, অধ্যাপক ডাঃ কনক কান্তি বড়–য়া, অধ্যাপক ডাঃ আনোয়ারা সৈয়দ হক, অধ্যাপক ডাঃ বরেণ চক্রবর্তী, অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান, ডাঃ শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর, ডাঃ সুচরিতা দেওয়ান, অধ্যাপক ডাঃ সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী, অধ্যাপক ডাঃ শাহিন আখতার, অধ্যাপক ডাঃ মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল), অধ্যাপক ডাঃ মোঃ মাহবুবুর রহমান (বাবু), ডাঃ নুজহাত চৌধুরী প্রমুখ শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকদের স্বাক্ষরিত প্রকাশিত ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি কোভিড-১৯ কে প্যানডেমিক ঘোষণা করেছে। তবে এটি সাম্প্রতিক কালের প্রথম প্যানডেমিক নয়। ইতিপূর্বে আমরা সোয়াইন ফ্লু, সার্স এবং মার্স-এর মত প্যানডেমিক সফলভাবে মোকাবিলা করেছি। মনে রাখতে হবে প্যানডেমিক মানেই এই নয় যে, কোভিড-১৯ নামের এই ভাইরাসটি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে কিংবা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া মানেই মৃত্যু অবধারিত। বরং এটি ভাইরাসটির ভৌগোলিক বিস্তারের স্বীকৃতি মাত্র।


পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের মত বাংলাদেশেও এখন কোভিড-১৯ ছড়াচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হচ্ছেন। আশংকা করা হচ্ছে সামনের দিনগুলোতে আরো অনেকে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এখন প্রয়োজন সর্বোচ্চ সতর্কতার। আতঙ্কিত না হয়ে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে আমরা নিজেরা যেমন কোভিড-১৯ মুক্ত থাকতে পারবো, তেমনি নিরাপদ রাখতে পারবো আমাদের আশপাশের মানুষগুলোকে আর আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে।


করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৩টি পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, নিজের এবং নিজের চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন। যেখানে সেখানে থুথু ফেলা থেকে বিরত থাকুন। সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশির জন্য অযথা দুশ্চিন্তিত হয়ে হাসপাতালে ভীড় না বাড়ানো। শুধুমাত্র দীর্ঘ মেয়াদী অথবা বাড়াবাড়ি রকমের লক্ষণ দেখা দিলেই সরকার নির্ধারিত হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করা। শুধুমাত্র সর্দি-কাশি থাকলে ফেস মাস্ক ব্যবহার করুন। ফেস মাস্ক ব্যবহার করা কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী এবং চিকিৎসা সেবা প্রদানকারীদের জন্য জরুরী সবার জন্য নয়। অপ্রয়োজনে গণপরিবহণ যেমন বাস, ট্রেন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা ও দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ থেকে বিরত থাকা, সামাজিক মেলামেশার সময় হাত মেলানো ও কোলা-কুলি করা পরিহার করা, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা ও হাঁচি-কাশির সময় কনুই এবং কাঁধের মাঝামাঝি অংশ দিয়ে মুখ ঢেকে নিন। প্রয়োজনে টিস্যু ব্যবহার করে তা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দেয়া। এছাড়াও মাছ, মাংস বা ডিম ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া, অন্যের ব্যবহার করা তোয়ালে, কাপড় ইত্যাদি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা, কমপক্ষে বিশ সেকেন্ড সাবান দিয়ে বার বার, ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস করা ও হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করা অত্যাবশ্যক নয়। হাত না ধুয়ে মুখ, নাক, চোখ স্পর্শ না করা।

আপনি যদি চীন, ইতালি, স্পেন, ইরান বা উপদ্রুত অন্য কোন দেশ থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরে থাকেন তাহলে ১৪ দিন স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকুন। এই ১৪টি দিন বাসায় একটি নির্দিষ্ট ঘরে থাকুন, কোন কারণেই ঘরের বাইরে বের হবেন না। এ সময় আপনার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কেউ আপনার সংস্পর্শে আসতে পারবেন না। দশ জনের বেশি মানুষ এক সাথে জমায়েত হবেন না। কখনও জমায়েত হলে পরস্পরের মধ্যে কমপক্ষে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন। এছাড়া বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের অন্য কোন অসুস্থতা যেমন হাঁপানি, ডায়াবেটিস বা হার্টের অসুখ আছে তাদের ঝুঁকি বেশি।

মুক্তআলো২৪.কম

আরও পড়ুন
রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত