ঢাকা, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ || ২৮ কার্তিক ১৪২৬
Breaking:
Mukto Alo24 :: মুক্ত আলোর পথে সত্যের সন্ধানে
সর্বশেষ:
৬৮৪

জাতীয় শোক দিবস

আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট

অনলাইন

প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০১৪   আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০১৪

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

আজ বাঙালির শোকের দিন,রক্তঝরা শোকাবহ ১৫ আগস্ট। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৯তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেন চক্রান্তকারী এক দল সেনা সদস্য। পেছনে ছিল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। আজ জাতীয় শোক দিবস। এই দিনে তাই কবির সেই আকুল আহ্বানেরই প্রতিধ্বনি শোনা যায়, ‘এই বাংলার আকাশ-বাতাস, সাগর-গিরি ও নদী/ডাকিছে তোমারে বঙ্গবন্ধু, ফিরিয়া আসিতে যদি।’ 

ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কে ঐতিহাসিক বাড়িটিতেই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সেদিন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন তাঁর সহধর্মিণী বেগম শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল। তবে প্রবাসে থাকায় সেদিন প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। হত্যাকাণ্ডে আরো প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর কয়েকজন নিকটাত্মীয়। বঙ্গবন্ধুর জীবন বাঁচাতে ছুটে গিয়ে ঘাতকদের হাতে প্রাণ দিয়েছিলেন জামিল উদ্দিন আহমেদসহ কয়েকজন নিরাপত্তা কমকর্তা ও কর্মচারী। জাতি আজ গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে সেই শহীদদের।

বঙ্গবন্ধু ছিলেন ঐক্য, প্রেরণা ও স্বাধীনতার মূর্ত প্রতীক। জাতির স্বপ্নের রূপকার। তাঁর ইস্পাত কঠিন নেতৃত্ব বাঙালি জাতিকে দিয়েছে অধিকার আদায়ের প্রেরণা। পাকিস্তানি শাসকদের ক্রমাগত শোষণ, দমন-পীড়ন, ঔপনিবেশিক লাঞ্ছনা-বঞ্চনা আর দীর্ঘদিনের নির্যাতন-নিপীড়ন-বৈষম্যের অপমান থেকে বাঙালিকে চিরকালের মতো মুক্ত হওয়ার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানি শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসমুদ্রে ভাষণে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। সেদিন তাঁর বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

এই দিনে বাঙালি জাতির ললাটে যে কলঙ্কতিলক পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ৩৫ বছরেরও বেশি সময় পর ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি সেই কলঙ্ক থেকে জাতির দায়মুক্তি ঘটে। বঙ্গবন্ধু হত্যার চূড়ান্ত বিচারের রায় কার্যকর করা হয়। ওই দিন মধ্যরাতের পর পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন দেশে পলাতক থাকায় আরো ছয় খুনির সাজা এখনো কার্যকর করা যায়নি। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ঠেকাতে কুখ্যাত ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ জারি করেছিল মোশতাক সরকার। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসীন হলে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ উন্মুক্ত করা হয়। বিচার শুরু হয় ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পলাতক থাকা ছয় খুনির চারজন কোথায় আছে সেই সন্ধান আমাদের কাছে এখনো নেই। নুর চৌধুরী রয়েছেন কানাডায় এবং রাশেদ চৌধুরী আমেরিকায় রয়েছেন- এটা আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এ দুই দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’

প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ‘সরকার পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তবে তারা যেসব দেশে পলাতক আছে, সেসব দেশেরও নিজস্ব আইন আছে। তাদের আইন ঠিক রেখেই কিভাবে খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা যায় সরকার কূটনৈতিকভাবে সেই চেষ্টা করছে।’

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ বলেন, ‘আমরা এখনো মনে করি না সরকারের কোনো গাফিলতি আছে। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আমাদের দাবি, পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে সরকার এ রায় বাস্তবায়ন করবে।’

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণীতে ১৫ আগস্ট শাহাদাতবরণকারী জাতির জনক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের অম্লান স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।  

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা কর্মসূচি পালন করবে। 

আজ সরকারি ছুটি। সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।

রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি : আজ সকাল সাড়ে ৬টায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। সশস্ত্র বাহিনী গার্ড অব অনার প্রদান করবে। এ সময় বিশেষ মোনাজাত ও কোরআন তিলাওয়াত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ৭টায় বনানী কবরস্থানে জাতির পিতার পরিবারের সদস্য ও অন্য শহীদদের কবরে এবং সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। এ সময় ফাতেহা পাঠ ও সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার প্রদানসহ বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। সারা দেশে সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হবে। 

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন শোক দিবসের অনুষ্ঠানমালা সরাসরি সম্প্রচারসহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এ ছাড়া পোস্টার, সচিত্র বাংলাদেশের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ ও বিতরণ এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলসহ জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সংগতি রেখে কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতা এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে।

দলীয় কর্মসূচি : আওয়ামী লীগের দুই দিনের কর্মসূচিতে রয়েছে সূর্যোদয়ের সময় বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দলের সর্বস্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে এবং সাড়ে ৭টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল, ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত এবং ১১টায় মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিল, দুপুরে অসচ্ছল দুস্থ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ, বাদ আসর মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

আগামীকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে এতে যোগ দেবেন।

এ ছাড়া সিপিবি, গণফোরাম, জাসদ, ন্যাপ ও গণতন্ত্রী পার্টি এবং আওয়ামী লীগের সব সহযোগী সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করবে।

প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছেন আজ : জাতীয় শোক দিবসের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে আজ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টায় তিনি বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে মোমবাতি প্রজ্বালন করে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট। এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

অনুষ্ঠান মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘সারা দিন বৃষ্টি হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকে হারানোর শোকে প্রকৃতিও আজ অঝোরে কাঁদছে। আমাদের দুঃখ, আমরা জাতির জনককে ধরে রাখতে পারিনি। জাতিকে এ ঋণ শোধ করার জন্য যুগ যুগ ধরে অপেক্ষা করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও অভিনেতা ফারুক হোসেন। বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সুজিত রায় নন্দী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ প্রমুখ।

নর্থ সাউথে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি : জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি গতকাল শুরু হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আমিন সরকার। প্রধান অতিথি ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য ড. এ এন এম মেশকাত উদ্দীন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত