ঢাকা, ২৬ মার্চ, ২০২৬ || ১২ চৈত্র ১৪৩২
Breaking:
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ      হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলতে পারবে বাংলাদেশসহ ৫ দেশের জাহাজ: ইরান     
Mukto Alo24 :: মুক্ত আলোর পথে সত্যের সন্ধানে
সর্বশেষ:
  ‘যারা বাংলাদেশ মানে না তাদের এ দেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই’        দৌলতদিয়া ঘাটে বাসডুবির ঘটনায় প্রাণহানি বেড়ে ২৬        জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন     
৭৬

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলতে পারবে বাংলাদেশসহ ৫ দেশের জাহাজ: ইরান

মুক্তআলো২৪.কম

প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৬  

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলতে পারবে বাংলাদেশসহ ৫ দেশের জাহাজ: ইরান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলতে পারবে বাংলাদেশসহ ৫ দেশের জাহাজ: ইরান


মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশের জাহাজ চলাচলে অভয় দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ এবং বিশেষ অনুমোদিত দেশের জন্য এই জলপথ খোলা থাকবে। ইরানের এই বন্ধুতালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই এই প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তেহরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি–সংকট ও পণ্য সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, এই জলপথ পুরোপুরি বন্ধ বলে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম যে দাবি করে আসছে, তা সত্য নয়। তিনি বলেন, ‘অনেক দেশের শিপিং কোম্পানি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপদ যাতায়াতের অনুরোধ জানিয়েছে। আমরা যাদের বন্ধুরাষ্ট্র মনে করি বা অন্য কোনো কারণে অনুমতি দিয়েছি, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের জাহাজের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করছে।’

আরাগচি আরও বলেন, ‘আপনারা খবরে দেখেছেন, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ভারত (এ তালিকায় আছে)। গত কয়েক রাতে ভারতের দুটি জাহাজ এই পথ দিয়ে পার হয়েছে। এমনকি আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশও এ তালিকায় আছে। এসব দেশ আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেছে এবং যুদ্ধের পরও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িত বা শত্রুপক্ষ হিসেবে বিবেচিত, তাদের জাহাজ এই পথে চলতে দেওয়া হবে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং যুদ্ধের নেপথ্যে ভূমিকা রাখা নির্দিষ্ট কিছু উপসাগরীয় দেশের জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আরাগচি বলেন, ‘আমরা এখন যুদ্ধাবস্থায় আছি। এই অঞ্চলটি এখন একটি যুদ্ধক্ষেত্র। তাই শত্রু বা তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে অন্যদের জন্য এটি খোলা থাকছে।’

চলতি সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানগামী একটি কনটেইনার জাহাজকে হরমুজ প্রণালিতে আটকে দেয় ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শারজা থেকে করাচিগামী ‘সেলেন’ নামে জাহাজটির ট্রানজিট অনুমতি না থাকায় সেটিকে মাঝপথ থেকেই ঘুরিয়ে দেয় ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

ইরান বর্তমানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে এই প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে। লয়েডস লিস্টের তথ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ে এই পথে দৈনিক ১২০টির মতো জাহাজ চলাচল করে। কিন্তু ১ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে এ সংখ্যা ৯৫ শতাংশ কমে গেছে।গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কেপলারের মতে, এই সময়ে মাত্র ১৫৫টি জাহাজ এই পথ দিয়ে পার হয়েছে, যার মধ্যে ৯৯টি ছিল তেল ও গ্যাস পরিবাহী ট্যাংকার। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি–সংকটের কারণে বিমান সংস্থা থেকে শুরু করে সুপারমার্কেট—সবখানেই খরচ বাড়ছে এবং সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। অনেক সরকার এখন করোনা মহামারির সময়কার মতো জরুরি সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবছে।








মুক্তআলো২৪.কম

 
আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত