গাংনীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫
মুক্তআলো২৪.কম
মুক্ত আলো
প্রকাশিত : ০৭:৫৭ পিএম, ১০ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার
গাংনীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদে আধিপত্য বিস্তার ও ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে এই ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন (কালু) ও কর্মী খাইরুল ইসলামের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বকুল হোসেন (৪০) ও রাসেল হোসেনকে (৪২) গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকেরা জানান, আহত দুজনের মাথায় গুরুতর জখম থাকায় তাঁদের শরীরে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের দ্রুত কুষ্টিয়া স্থানান্তর করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন বলেন, ‘রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলুর অনুসারী সারগিদুল ইসলাম গরিবের ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করছেন। আমরা দলের পক্ষ থেকে এর প্রতিবাদ করতে গেলে সারগিদুলের লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। তাঁরা বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে এসে আমাদের কর্মীদের ওপর ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্যানেল চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভিজিএফের চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়নি বরং পরিষদে আধিপত্য বিস্তার করতে এসেছিলেন আলফাজ উদ্দীন ও তাঁর লোকজন। তাঁরা অন্যায়ভাবে পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে সাধারণ মানুষ ও আমাদের কর্মীরা বাধা দেয়। তাঁরাই প্রথমে হামলা চালান।’
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর থেকে গাংনী উপজেলা বিএনপিতে দুটি ধারা সক্রিয় রয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে আছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন। তাঁর পক্ষে সক্রিয় রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু। অন্য পক্ষটির নেতৃত্বে আছেন বর্তমান জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ (মিল্টন)। তাঁর অনুসারী হিসেবে পরিচিত সংঘর্ষে আহত আলফাজ উদ্দীন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ছিলেন আমজাদ হোসেন। কিন্তু নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নাজমুল হুদা জয় পান। এর পর থেকে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মারকাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম সাকলাইন। কিন্তু ২০২৪ মালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরে তিনি পালিয়ে যান। এরপর ৭ নম্বর ইউপি সদস্য সারগিদুল ইসলামকে প্যানেল চেয়ারম্যান করা হয়। তিনি বিএনপির কোনো পদে না থাকলেও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাস বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ বা মামলা করলে পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুক্তআলো২৪.কম
