নিজেরাও দুর্নীতি করব না, কাউকে দুর্নীতি করতে দিব না: ত্রাণমন্ত্রী

মুক্তআলো২৪.কম

মুক্ত আলো

প্রকাশিত : ০৭:৩৪ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার

নিজেরাও দুর্নীতি করব না, কাউকে দুর্নীতি করতে দিব না: ত্রাণমন্ত্রী

নিজেরাও দুর্নীতি করব না, কাউকে দুর্নীতি করতে দিব না: ত্রাণমন্ত্রী


দুর্নীতির বিষয়ে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব (দুলু)। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরাও দুর্নীতি করব না, আমরা কাউকে দুর্নীতি করতে দিতে চাই না।’

আজ সোমবার দুপুরে রংপুর বিভাগের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও অন্যান্য বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আসাদুল হাবিব এ কথা বলেন। রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আসাদুল হাবিব বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই এটা (দুর্নীতি) আমরা মেনে নেব না। দুর্নীতির বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স—মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা, মানুষের যে ভাবনা, সেখান থেকে যেন আমরা আমাদের সেভাবে সবাই প্রস্তুত রাখি। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে আমাদের। এই বিষয় সবাই সব বিভাগেই গুরুত্বের সঙ্গে আপনারা দেখবেন। এই বিষয়ে কারও বিরুদ্ধে যদি কোনো ধরনের অভিযোগ আসে, তখন আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হব। আমরা নিজেরাও দুর্নীতি করব না, আমরা কাউকে দুর্নীতি করতে দিতে চাই না।’

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর আসাদুল হাবিব বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক, কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বক্তব্য শোনেন।
 

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্কেল-১–এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব বলেন, আগামী জুনের মধ্যে ২৭ কিলোমিটার খাল ও ২৫ কিলোমিটার ছোট নদীর খননকাজ শেষ হবে। রংপুরের শ্যামাসুন্দরী খালের ২৫ কিলোমিটার খননের কাজ চলছে। তিনটা দপ্তর কাজ করছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় করছে খালের বর্জ্য অপসারণের কাজ, সিটি করপোরেশনকে দেওয়া হয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। সৌন্দর্যবর্ধন ও বনায়নের কাজ করবে এলজিইডি বিভাগ।

এ বিষয়ে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব বলেন, সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে যাতে খাল খননের পর আবার ভরাট হয়ে না যায়। অনেক সময় অতীতে এ রকম খাল খনন করা হয়েছে, কিন্তু কার্যকারিতা হয়নি এ কারণেই। প্রাক্কলন ও নকশা অনুযায়ী কাজের কোনো হেরফের করা যাবে না। আগে ঢাকার অনেক খাল খনন করেছে, খাল খনন না করেই ঠিকাদার বিল নিয়ে বাড়ি চলে গেছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপে এ ধরনের কাজ যেন না করা হয় সে নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
 

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, পঞ্চগড়ে চা–বাগানের সার সমস্যা রয়েছে। সার দেওয়া হয় কৃষিপণ্যের জন্য, কিন্তু চা একটি বাণিজ্যিক পণ্য। এ কারণে ডিলাররা চা–চাষিদের সার দিতে চান না। এই সমস্যা সমাধানে তিনি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ ছাড়া রংপুরে স্বাস্থ্যব্যবস্থা খুবই খারাপ। পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে সম্প্রতি ১৫ জন চিকিৎসক যোগদান করলেও ১১ জন বদলি নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম দিনাজপুর শহরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত ঘাঘরা খালটি সংস্কার করতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।

ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং মাদক নির্মূলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, ভিজিএফ বিতরণে কোনো ধরনের দুর্নীতি, ওজনের ঘাটতি বা স্বজনপ্রীতি মেনে নেওয়া হবে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনে কয়েক দিন ভাগ করে এই চাল বিতরণ করতে হবে বলে নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। এ ছাড়া সারের বাজার নিয়ন্ত্রণে ডিলারদের ওপর ক্লোজ মনিটরিং রাখার নির্দেশ দেন তিনি। ডিলাররা যাতে সরকারের নির্ধারিত মূল্যের বাইরে সার বিক্রি করতে না পারেন, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে বলেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আসাদুল হাবিব বলেন, তিস্তাকে ঘিরে এই অঞ্চলের দুই কোটি মানুষের যে দীর্ঘদিনের দাবি, তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। বিগত সরকারের আমলে নেওয়া বিক্ষিপ্ত কোনো প্রকল্প নয়, বরং একটি সমন্বিত প্রকল্পের মাধ্যমে তিস্তা শাসন ও খনন করা হবে।

মতবিনিময় সভায় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মো. আমিনুল ইসলাম, রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী, রংপুরের জেলা প্রশাসন মোহাম্মদ এনামুল আহসান প্রমুখ বক্তব্য দেন।








মুক্তআলো২৪.কম