দ্বিতীয় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে

মুক্তআলো২৪.কম

মুক্ত আলো

প্রকাশিত : ০৬:৩৭ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার

দ্বিতীয় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে

দ্বিতীয় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে


বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরীকে ক্যারিবীয় সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাত্রার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার এই পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন। এ সিদ্ধান্ত এসেছে এমন সময়, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নেবেন কি না তা বিবেচনা করছেন।

ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডের এই পদক্ষেপ (যা প্রথম প্রকাশ করে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস) ফলে অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী ও তাদের সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন থাকবে। ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে তেহরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন।
সামরিক চলাচল নিয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় সূত্রটি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী এবং তিনটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার দুই সপ্তাহেরও বেশি আগে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। গত অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাহাজটিকে ভূমধ্যসাগর থেকে ক্যারিবীয় অঞ্চলে পাঠান। সে সময় প্রশাসন একটি আকস্মিক অভিযানের আগে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলে, যার মাধ্যমে তৎকালীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়।
এ পদক্ষেপটি ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক বলে মনে হচ্ছে, কারণ ওই কৌশলে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পশ্চিম গোলার্ধের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেন, “তার প্রশাসনের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে তা হবে ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’। গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ওমানে পরোক্ষ আলোচনা করেছে।”

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তির সময়সীমা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার ধারণা আগামী এক মাসের মধ্যে, এরকম কিছু একটা সময়ের মধ্যেই।
’ আরো বলেন, ‘এটি দ্রুতই হওয়া উচিত। তাদের খুব দ্রুত সম্মত হওয়া উচিত।’

এই সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে জানান, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

বুধবার ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন এবং বলেন, তিনি ইসরায়েলের নেতাকে জোর দিয়ে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। নেতানিয়াহু প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে তেহরানকে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করতে এবং হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে চাপ দেওয়া হয়।
ইউএসএস ফোর্ড ২০২৫ সালের জুনের শেষ দিকে মোতায়েনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এর অর্থ, দুই সপ্তাহের মধ্যে জাহাজটির ক্রুরা টানা আট মাস মোতায়েন অবস্থায় থাকবে। জাহাজটি কত দিন মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে এ পদক্ষেপের ফলে ক্রুদের জন্য অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ সময়ের মোতায়েনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।









মুক্তআলো২৪.কম