চারটি প্রশ্নে ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক:
মুক্তআলো২৪.কম
মুক্ত আলো
প্রকাশিত : ০৬:৪৪ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার
চারটি প্রশ্নে ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক: গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রণীত জুলাই সনদ অনুসারে গণভোটের পদ্ধতিকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়েছে বামপন্থী ৯টি দলের জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য জোটের ঘোষিত ইশতেহার প্রকাশের সংবাদ সম্মেলনে গণভোট নিয়ে তাদের এই অবস্থান প্রকাশ করা হয়।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সংবাদ সম্মেলন হয়। এতে লিখিত ইশতেহার পাঠ করেন জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।
ইশতেহার পাঠের আগে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, জনগণের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিগত তিনটি নির্বাচনে কার্যত ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ ছিল না। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের শাসন নিশ্চিত করাই এই জোটের মূল লক্ষ্য।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধানের মৌলিক সংস্কারে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। সিপিবি, বাসদসহ গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের অংশীদার দলগুলো জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় যোগ দিলেও জুলাই সনদে সই করেনি।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যেভাবে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছে এবং গণভোটে সাংবিধানিক সংস্কারগুলোকে চারটি প্রশ্নের একটি প্যাকেজে এনে ‘হ্যাঁ/না’ ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে—তা পুরোপুরি অগণতান্ত্রিক। গণভোটে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ রাখা হয়নি। এতে প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটবে না।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হলে জুলাই সনদের ঐকমত্যের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করলেও ভিন্নমতের বিষয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করবে বলে জানান বজলুর রশীদ ফিরোজ।
এই গণভোটের আয়োজন অসাংবিধানিক দাবি করে তিনি বলেন, জুলাই সনদে আট মাসের আলোচনা ও নোট অব ডিসেন্টের মর্মবস্তু প্রতিফলিত হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসও সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি। রাষ্ট্রের চার মূলনীতি বহাল রাখার প্রস্তাব মানা হয়নি। জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার এবং এ নিয়ে আদালতে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের ইশতেহারে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট ১৮টি বিষয়ে অঙ্গীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, গণতান্ত্রিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমন, স্বশাসিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার ও প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস, শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন, জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার গণমুখী সংস্কার, খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষি সংস্কার, শ্রমিক অধিকার ও ট্রেড ইউনিয়ন স্বাধীনতা, নারী অধিকার ও লিঙ্গসমতা, যুবশক্তির বিকাশ, পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামো, পরিবেশ, জলবায়ুও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষা, বিজ্ঞান-প্রযুক্ত ও গবেষণার গণমুখী সংস্কার, গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক চেতনা এবং পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সংহতি।
অভ্যুত্থানের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে দাবি করে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, মাজার, খানকাহ, আখড়া-মন্দিরে ধর্ম ও সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ চলেছে। গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও নারীদের ওপর হামলা ও সাইবার বুলিং প্রমাণ করছে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান হয়নি। ফ্যাসিবাদী শাসনের চরিত্র অপরিবর্তিত থাকায় মানুষ আবারও মুক্তির পথ খুঁজছে।
এই পরিস্থিতিতে দেশের জন্য জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নেই বলেই বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তি মিলিত হয়ে ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ গঠন করেছে বলে জোটটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাকসুর সাবেক ভিপি রাগিব আহসান মুন্না, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সমন্বয়ক মাসুদ রানা, জাতীয় গণফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুন নুজহাত মনীষা উপস্থিত ছিলেন।
মুক্তআলো২৪.কম
