ঢাকা, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ || ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
Breaking:
Mukto Alo24 :: মুক্ত আলোর পথে সত্যের সন্ধানে
সর্বশেষ:
৫৮২

ছেলেদের যোগ্যতর মেনে নেওয়া মেয়েদের সহজাত প্রবণতা ভালোবাসার সম্পর্কে

অনলাইন

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০১৪   আপডেট: ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪

ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইক এর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ড. মারিয়া দো মার পেরেরা তার এক গবেষণায় তথ্য জানান যে,১৪ বছর বয়সী কিশোরদের মাঝে এমন একটি বিশ্বাস কাজ করে যে, তাদের সমবয়সী মেয়েরা তাদের চেয়ে কম বুদ্ধি রাখে। আর এ কারণে ভালোবাসার সম্পর্কের ক্ষেত্রে ছেলেদের নিয়ন্ত্রণে থেকে তাদের খুশি করতে চায় মেয়েরা।
ড. মারিয়া বলেন, সমাজের চোখে সঠিক ও যোগ্য নারী-পুরুষ হয়ে উঠার জন্য কম বয়সীদের মাঝে ব্যাপক চাপ কাজ করে। এ জন্য তারা এই চাপ কাঁধে নিয়ে সমাজের জন্য গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে চান। এমনই একটি সামাজিক চাপ হলো, ছেলেদেরকে মেয়েদের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান, শক্তিশালী, লম্বা, রসবোধসম্পন্ন হয়ে উঠতে হবে। আর এই চাপ এমনই সহজাত হয়ে যায় যে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ছেলের চেয়ে বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন মেয়েরাও নিজের নারীত্বকে ছোট করে দেখেন।
বিভিন্ন স্কুলের কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এই গবেষক টানা তিন মাস ধরে গবেষণা চালান। তিনি অষ্টম শ্রেণির ছেলে-মেয়েদের প্রতিদিনের স্কুলজীবন পর্যবেক্ষণ করেছেন। যতটা পারা যায় ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করেন ড. মারিয়া। তিনি প্রতিদিন তাদের সঙ্গে ক্লাসে বসেছেন, তাদের শিক্ষকের কাজ করেছেন, পরীক্ষা নিয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে ক্যাফেটেরিয়ায় লাঞ্চও করেছেন। এমনকি তাদের সঙ্গে মাঠে খেলাসহ শপিং মলেও ঘুরতে গিয়েছেন। ফলে তিনি এসব ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে তাদের মতো করে মিশে যেতে পেরেছিলেন।
গবেষক জানান, সত্যিকার মানুষ হয়ে ওঠার জন্য আমরা যে চাপ ওদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছি তা সহজাত নয়। তাদের স্ববিরোধী নিয়ম ও আদর্শ ধারণ করতে হয়।
ছেলেরা নিয়ন্ত্রক- এই ধারণার কারণেই কম বয়স থেকেই তারা এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য অস্থির হয়ে ওঠে। এই বিশ্বাস ধারণের পরবর্তী আচরণ মারামারি, মাদক, যৌন নিপীড়ন এবং আবেগের বিস্ফোরণ।
ওদিকে, মেয়েদের মধ্যেও বদ্ধ ধারণা জন্মে যে, তারা ছেলেদের চেয়ে অনেক কম বুদ্ধি রাখে এবং তাদের সামর্থ্যও বেশি নয়। তাই নির্যাতন সয়ে নেওয়া বা শখের কিছু না করা বা অন্যান্য ক্ষেত্রে ছেলেদের প্রতিযোগী হয়ে ওঠার মানসিকতা তৈরি হয় না তাদের মাঝে, বলেন ড. পেরেরা।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

লাইফস্টাইল বিভাগের সর্বাধিক পঠিত